প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। যারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
রোববার (৯আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে মিথ্যা কথা বলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “যেভাবে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যেভাবে তারা ৮৬ সালের জাতীয় বেঈমানদের সঙ্গে মিলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল, ৯৬ সালে দেশের মানুষের সঙ্গে গাদ্দারি করে স্বৈরাচারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্বাচন করেছিল আজকে আবার সেই গুপ্ত বাহিনী মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, মানুষের সামনে মিথ্যা কথা বলছে। তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।”
দেশের মানুষের অবস্থার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একে একে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে।
চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এ অঞ্চলে দেশি-বিদেশি অনেক বিনিয়োগ রয়েছে এবং বিভিন্ন কলকারখানা গড়ে উঠেছে। চট্টগ্রামের মানুষ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ও বিনিয়োগ বাড়াতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রয়োজন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলে বিদেশিরাও বিনিয়োগে আগ্রহী হবে এবং ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে। এর ফলে বেকার যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, মানুষের আয় বাড়বে এবং দেশের মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে একটি রাজনৈতিক দল দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, “আজকে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এই বিশৃঙ্খলাকারী যারা রাজপথে এসে রাজপথ বন্ধ করে দিতে চায়, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
তিনি আরও বলেন, “আর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না। এখন সময় হচ্ছে দেশ গড়ার সময়, এখন সময় হচ্ছে জাতির ভাগ্য বদলের সময়।” দেশের জনশক্তিকে উৎপাদনশীল কাজে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের শ্রমকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের কাছে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হাটহাজারী উপজেলা সহ দেশের সবকটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। শিক্ষার বিষয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্কুলের পোশাক কিনতে পারে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দেওয়ার পাশাপাশি স্কুলের পোশাকও বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যরিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সহ বিএনপি ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাটহাজারী মাদ্রাসায় মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফির কবর জেয়ারত করেন এবং ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সাক্ষাত করেন। সফরের অংশ হিসেবে বাঁশখালী ও কক্সবাজারেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন তিনি। হাটহাজারীতেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তিনি। এ সময় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি খাত নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

